Tuesday, November 12, 2013

বহতা

কালচার প্লেটে কোষেদের এক থেকে বহুর ধারাপাত 
বানাতে  বানাতে যখন 
খুশীতে মত্ত হয়ে প্রায় ভেবে বসি 
আমিও তো বানিয়ে তুলতে পারি জীবন 
এক থেকে দুই, দুই থেকে এক কলোনী।

তখনই, জীবন জাগিয়ে তোলে  আমায় 
আনন্দের ভাসমান শূন্য  থেকে আঁছড়ে নামায় বাস্তবের শক্ত মাটিতে ।
তর্জনী তুলে বলে " এত ক্ষুদ্রতায় বেঁধো না আমাকে  
আমাকে ধরা যায়না পাত্রে - আমি যে সততই বহতা"।

এক বিন্দু থেকে শুরু এক অশেষে  তাঁর ছুটে চলা
এরই মাঝে কিছু কিছু জীবন এমন ভাবে ছুঁয়ে  যায় তোমাকে, আমাকে, তাঁদেরকে  ওঁদেরকে                                                                           আরো অনেক অনেককে 
দুকূল ভাসিয়ে তার ভালবাসা যেন জ্বালায় আলো 
আনন্দের সে আলোয় উদ্ভাসিত - বিকশিত 
নৃত্যরত  এক জীবন 
সে আলোর জোয়ারে ভেসে যাই আমরা - ভেসে যায় শোক 
রয়ে যায় শুধু স্মৃতির জলছবি, 
শোক  মুঁছতে পারে না তাকে।
                                                জয়শ্রী দাশগুপ্ত 

Monday, June 10, 2013

বিদায়

তোমার তোলা তর্জনী ফিরিয়ে দিয়ে 
আমি ফিরে যাচ্ছি ।

তোমার ভ্রুকুটিও  ফিরিয়ে দিয়ে 
আমি ফিরে যাচ্ছি ।

তোমার কাঁটা আর বিঁধবে না তো আমায় 
পিছন ফিরে আর দেখা কখনো না কখনো না 
কালো ধোঁয়ায় আর ঢাকে না পথ -
তবু কেন আঁধার করে আকাশ ঢেকে দিলে ?

সব ফিরিয়ে  দিয়ে ফিরে যাচ্ছি আমি-

বিদায় বেলায় তোমার সাথে দেখা, রইলো শুধু বাকি  ।





Sunday, May 12, 2013

matri dibas

মাতৃত্ব এক বহতা নদীর নাম
পরম্পরা থেকে পরম্পরা সতত গতিময় স্রোত

দ্বায়িত্বের এ ভার বড় ভারী,
চোখ বাধা তরুণী তুলাদণ্ডে স্নেহের হিসাব
দুজন দরজার দুদিকে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি
                                                সন্তান ও আমি ।
জোছনায় ভেসে যায় সমস্ত প্রান্তর
মা বুঝি এখনো ভাবে "কেমন আছিস"...
                                              এ ভাবে শুধু মাকে মনে পড়ে বড়ো আজ
                                                                                   বুঝি কালও 
                                                                                                                                                                           বুঝি আগামীতেও 
                                                                                                                            যতদিন এখানে আছি ।                                                                         

Wednesday, August 15, 2012

স্বাধীনতার দিনে

প্রতি স্বাধীনতার দিনে আমার মাকে বড়ো  মনে পরে।
ছোটোবেলার স্মৃতিতে দিনটা ছিল আনন্দেরই, রোদ উজ্জ্বল ঝকঝকে ।
বাবার হাত ধরে পতাকা নারতে নাড়তে মিষ্টি কিনে, ভাই আর আমি বাড়ি ফিরছি,
এই তো যেন সে দিনের কথা ।
সে ছবিতে শুধুই  সুখ, শুধুই খুশী, শুধুই হাসি খেলা কত শত রঙের  গাঁথা  মালা।

আমার মা  ভয়াবহ ৪৭এর অনেক আগেই এদিকে চলে এসেছিলেন, আপাতভাবে কাঁটা ছেড়ার আঁচ লাগেনি তাঁদের  গায়ে  ।
তখন নতুন বউ হয়ে এক অজানা শহরে শ্বশুরঘর করতে আসা সবে কৈশোর পেরোনো সেই লাজুক মেয়েটি কে হয়ত রোমাঞ্চই  দিতো  এই পারাপার।
বারবার দুধসাদা গ্রামে ফিরে গিয়ে সেই আদরিনী মেয়ে ভালবাসায়  ভাসতে  ভাসতে এপারের গল্প করার মধ্যে যেন ছিলো  অশেষ স্বর্গসুখ।

১৫ই আগস্ট এলেই মায়ের চোখের কোন  কেন জল চিকচিক করত - অনেক অনেক দিন তা বুঝিনি।

এখন বুঝি, ওই দিন দুধশা নদীর দুকূল ছাপিয়ে আসতো জোয়ার
সেই নদীতে মন খারাপের ঘন কালো কুয়াশায় হারিয়ে যেত এক মযুরপঙ্খী নাও।
সাজান সব রাজপাট পরে থাকলো যেমন তেমন,
কাঁটাতারের বেঁড়া পেরিয়ে আর কখন বড় হাউলিতে হবে না দ্বিরাগমন ।
দূর্গা দালানে কোজাগরী আল্পনা আর কখনও না, কখনও না,
খান্ডব দহনের আগুনে পুরে ছাই সব ছোট ছোট সুখ
দম বন্ধ করা ধুলোর ঝড়ে  উল্টোপালটা  লন্ডভন্ড হারিয়ে গেল
                                  অতি আদরের কত কত, কত  শত মুখ ।

প্রত্যেক স্বাধীনতার দিনে মাকে ডাক পাঠাতো সেই নদী, সেই দূর্গা দালানে সেই হারিয়ে যাওয়া মুখেরা
আর আমার সদাহাস্যময়ী মা হয়ে যেত এক জল টলটল নদী ।

আজ আমাকে স্বাধীনতার দিনে সুদুর থেকে ডাক পাঠায় তোমাদের আদরের নৌকা, ডাক পাঠায় সংকেতে দূরভাষে ২৫শে , ২২শে -০৩৩এ
আর শুধু আমার মাকে  মনে পরে, শুধু মাকে  মনে পরে।

Thursday, July 19, 2012

হয়তো


এখনো আমার ছেলেটা খিচুড়ির সাথে চানাচুর খেতে ভালবাসে 
এখনো আমার মেয়েটা বাবার গলা জড়িয়ে,
                           বকবক করে যায় সারাদিন রাতভর।
আমার এখনো ভালো লাগে ছেলেমানুষীর সব হইহই  সব সব পাগলামি  । 
তাই  সব উল্টো পাল্টে,  
সোজা সরল এই ছাদটাই ঘুড়ি উড়াতে লাটাই ধরলো, কখন কেন কে জানে !

দাবা সাজিয়ে বসে থেকে থেকে ওস্তাদরা চলে গেল হাডুডু খেলতে
আর আমরা পথ হারিয়ে শুধু খুঁজে গেলাম গন্তব্য, কানামাছি দিনে রাতে ।

নিরুদেশে পাড়ি  দিয়েছে জোনাকিরা
এ জীবনে আর ওঠা হলনা ওই শৃঙ্গে
তবু আলোতে ভাসাভাসি এই দরিয়ায় নৌকো বেয়ে যাই
এই আশায়
            হয়তো কোনো দিন
                                  হয়তো
                                        অন্য কোনো দিন
                                                    বিশ্বাসে মিলাবে বস্তু
                                                                           ছাপিয়ে দুকূল।

Friday, July 13, 2012

চারিদিকে সাজিয়ে রেখেছো এত কিছু আমাদের জন্য

স্তরে স্তরে  এই যে জীবনের কথা,  অপেক্ষা শুধু আবিস্কারের
 বারবার ভালবাসার এই পেয়ালা ভরা থাক

 যা নিয়ে পূর্ণ হোক

পথ পরিক্রমা, দিক দর্শনের উন্মোচন ।

Tuesday, July 3, 2012

opekhar dekha

শব্দের নিস্তরঙ্গ এই চলাচল, মনটা টুপ টুপ পদ্ম পাতায় জল 

   ধুকপুক হৃদয়ের কথা, রাত ভোর বাজে বিলাবল ।

নদী তবু বয়ে যায়, উপচিয়ে কান্নার ঢল,

একা একা পথ চলা জীবনের  অতলান্ত নীল সে সাগর ।

ভালোবেসে ভেসে যাওয়া জীবনের ওঠা নামা এই উতরোল 

তার মাঝে অপেক্ষার শুধু এই অপেক্ষার হাত ধরে এগোয় জীবন ।